logo

FX.co ★ ২ জানুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

২ জানুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

২ জানুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

গত বুধবার অনেকটা EUR/USD পেয়ারের মতোই GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে। এই পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্ট বেশ বিশৃঙ্খল এবং মিশ্র ধরনের ছিল, তবে অস্থিরতার মাত্রা তুলনামূলকভাবে কমই ছিল। সামষ্টিক অর্থনৈতিক কিংবা মৌলিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব একেবারেই অনুপস্থিত ছিল এবং এই মুহূর্তে টেকনিক্যাল চিত্র অনেকটাই পরস্পরবিরোধী। আমরা মনে করি, ছুটির সময়ে টেকনিক্যাল বিশ্লেষণে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, কারণ ওই সময় মার্কেটে সাধারণত অনিয়মিত মুভমেন্ট দেখা যায়। মার্কেটের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি—সব টাইমফ্রেমেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই আমরা আশা করছি, ছুটি শেষ হওয়ার পরের সপ্তাহে নতুন বছরের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। খুব সম্ভবত সোমবার থেকেই মার্কেটে আরও উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট শুরু হবে, যা ট্রেডারদের জন্য স্পষ্ট ট্রেডিং সিগন্যাল এবং মুনাফার সুযোগ তৈরি করতে পারে। এই মুহূর্তে, মার্কিন ডলারের তুলনায় ব্রিটিশ পাউন্ডের জন্য আরও অধিক আকর্ষণীয় পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

২ জানুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, বুধবার পাউন্ডের কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত করেছিল। প্রশ্ন হলো - বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর মার্কেটে ট্রেডিং সেশন শেষ হওয়ার আগে এই সিগন্যালগুলো অনুসরণ করে ট্রেড করা কি যৌক্তিক ছিল? স্বাভাবিকভাবেই, সেসব সিগন্যালের মান খুব একটা ভালো ছিল না এবং গত কয়েক সপ্তাহ এবং মাসজুড়েই অস্থিরতার মাত্রাও বেশ কম ছিল। এমনকি ছুটির সপ্তাহে অস্থিরতার মাত্রা আরও কমে গেছে। আমাদের মতে, বাস্তবিক অর্থে ট্রেডিং শুরু করার সঠিক সময় হলো সোমবার, অর্থাৎ ৫ জানুয়ারি।

শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্য ট্রেন্ডলাইনের নিচে থাকা অবস্থায় ট্রেডিং সেশন শেষ হয়েছে, তাই টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ অনুসারে নতুন বছরের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে পাউন্ডের নতুন দরপতনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে আমরা মনে করি না যে, মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে, তাই আমরা শুধুমাত্র এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্টেরই প্রত্যাশা করছি। সামগ্রিকভাবে, আমরা মনে করি যে ২০২৫ সালে পরিলক্ষিত বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আবারও শুরু হতে যাচ্ছে এবং এর ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই পেয়ারের মূল্য 1.4000 লেভেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

শুক্রবার এই পেয়ারের মূল্য 1.3437–1.3446 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করার কথা চিন্তা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3529–1.3543-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি এই পেয়ারের মূল্য এই এরিয়ার নিচে থাকা অবস্থায় সেশন শেষ হয়, তাহলে শর্ট পজিশন উপযুক্ত হবে এবং এক্ষেত্রে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেড করার জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে 1.2913, 1.2980–1.2993, 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3203–1.3212, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3437–1.3446, 1.3529–1.3543, 1.3574–1.3590। শুক্রবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, তাই মার্কেটে খুবই দুর্বল মাত্রার অস্থিরতা বিরাজ করতে পারে। মার্কেট থেকে এখনও ছুটির আমেজ পুরোপুরিভাবে যায়নি।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account