logo

FX.co ★ ৯ ফেব্রুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

৯ ফেব্রুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

শুক্রবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

৯ ফেব্রুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

শুক্রবার স্থানীয় কোনো অনুঘটক ছাড়াই GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে এর আগের দিন ব্রিটিশ পাউন্ডের উল্লেখযোগ্যভাবে দরপতন ঘটেছিল, যার জন্য বস্তুনিষ্ঠভাবে খুব বেশি কারণ ছিল না। হ্যাঁ, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠকের ফলাফলকে শর্তসাপেক্ষভাবে 'ডোভিশ বা নমনীয়' হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, কিন্তু এখানেই শুভংকরের ফাঁকি—বিষয়টি শর্তসাপেক্ষ। মূল সুদের হার অপরিবর্তিত রয়েছে, এবং পরবর্তী বৈঠকে ব্যাংকটির আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটি নতুন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আবার সুদের হার নিয়ে ভোট দেবে। অতএব আমরা মনে করি না যে বর্তমানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ট্রেডারদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি 'ডোভিশ' অবস্থানে রয়েছে। তবুও, ইউরোর বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে। ট্রেন্ড লাইন স্পষ্টভাবে সেই সীমানাগুলো নির্দেশ করে যার নিচে প্রবণতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা মূলত গত শুক্রবার প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। তাই ডলারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতেও পারে।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

৯ ফেব্রুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে শুক্রবার একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়। এশীয় সেশনের শুরুতে এই পেয়ারের মূল্য 1.3529-1.3543 রেঞ্জ অতিক্রম করে গিয়েছিল, এবং ইউরোপীয় সেশনের শুরুতে মূল্য সিগন্যাল গঠনের পয়েন্ট থেকে মাত্র কয়েক পিপের দূরত্বে অবস্থান করছিল। তাই নতুন ট্রেডাররা একটি স্পষ্ট ও কার্যকর সিগন্যালের ভিত্তিতে লং পজিশন ওপেন করতে পারতেন। দিনের বাকি সময়ে এই পেয়ারের মূল্য কেবল ঊর্ধ্বমুখীই হয়েছে।

সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার গঠন অব্যাহত রয়েছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি নেই, তাই আমরা আশা করছি ২০২৬ সালেও ২০২৫ থেকে চলমান বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে, যা অন্তত এই পেয়ারের মূল্যকে 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। গত সপ্তাহে সার্বিক পরিস্থিতি ব্রিটিশ কারেন্সির পক্ষে ছিল না, তবে আমাদের মতে এই দরপতন মূল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় কেবল একটি অস্থায়ী বিরতি মাত্র।

সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3529-1.3534-এর দিকে যাওয়ার টার্গেট নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়ার ওপর কনসোলিডেশন করলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3741-1.3751-এর দিকে যাওয়ার টার্গেট নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য বিবেচ্য লেভেলসমূহ: 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832, 1.3891-1.3912, এবং 1.3975।

সোমবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই বা কোনো প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে না। অতএব সারাদিন জুড়ে এই পেয়ারের মূল্যের স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা এবং দুর্বল মুভমেন্ট দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account