logo

FX.co ★ ১২ ফেব্রুয়ারি কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

১২ ফেব্রুয়ারি কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

১২ ফেব্রুয়ারি কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবার মাত্র কয়েক ঘণ্টা EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে। মার্কিন শ্রমবাজার ও বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মার্কেটে স্থবিরতা ও শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, এবং উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কিছুক্ষণ পরেই মার্কেটে আবার স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে আসে। প্রথম যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হলো—কোনো তীব্র অস্থিরতা দেখা যায়নি; অস্থিরতার মাত্রা সত্যিই কয়েক ঘণ্টার জন্য বেড়েছিল, এবং নন-ফার্ম পে-রোল ও বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের কিছুটা ইতিবাচক ফলাফলের প্রভাবে ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারিতে নন-ফার্ম খাতে পে-রোল 130,000 ছিল, যা সর্বোচ্চ পূর্বাভাস 70,000-এর অনেক বেশি, এবং বেকারত্ব হার 4.3%-এ নেমে এসেছে—এরকম ফলাফল কেউই প্রত্যাশা করেননি। ফলে ডলারের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি যুক্তিসঙ্গত, কিন্তু এই প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হবে? বৃহস্পতিবার সকালের মার্কিন মুদ্রার দর 25 পিপস বেড়েছে। মার্কিন প্রতিবেদনের শক্তিশালী ফলাফল প্রকাশের ফলে ট্রেডাররা হয়তো ডলারের মূল্যের আরও বেশি উত্থানের আশা করেছিলেন। এই বিষয়টি কি এই ইঙ্গিত দেয় না যে সামগ্রিকভাবে ট্রেডাররা মার্কিন ডলার কেনার ব্যাপারে আগ্রহী নয়? উল্লেখ্য যে গত ১৩ মাসে মার্কিন মুদ্রার দরপতনের মূল কারণ কিন্তু শ্রমবাজার পরিস্থিতি অবনতি নয়...

EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

১২ ফেব্রুয়ারি কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ


বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে তিনটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। সকালবেলায় এই পেয়ারের মূল্য 1.1899-1.1908 এরিয়াটি ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী, তবে মার্কিন সেশন শুরুর আগে এই পেয়ারের মূল্য মাত্র 10 পিপস বৃদ্ধি পেয়েছিল। নন-ফার্ম পে-রোল ও বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ট্রেডগুলো ম্যানুয়ালি ক্লোজ করা উচিত ছিল, কারণ এই পেয়ারের মূল্য যেকোনো দিকে দ্রুত মুভমেন্ট প্রদর্শন করতে পারত। 1.1899-1.1908 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেশনের ফলে গঠিত সেল সিগন্যাল কাজে লাগানোর কোনো সুযোগ ছিল না, কারণ মাত্র 5 মিনিটে এই পেয়ারের 70 পিপস দরপতন ঘটে। তবে 1.1830-1.1837 এরিয়ার থেকে বাউন্স কাজে লাগিয়ে মুনাফা করার চেষ্টা করা যেত, যদিও সেখানেও এন্ট্রি পয়েন্টটি আদর্শ ছিল না।


বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী করেকশন এখনও কার্যকর আছে, তবে শীঘ্রই আবার উর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে। মনে রাখবেন যে এই পেয়ারের মূল্যের সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। যদি সত্যিই তা হয়ে থাকে, তবে ২০২৬ সালের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরুদ্ধার হয়েছে। অতএব, আমরা মধ্যমেয়াদে নতুন করে ডলারের দরপতনের প্রত্যাশা করছি। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক পটভূমি বেশ চ্যালেঞ্জিং রয়ে গেছে, যা ইউরোর মূল্যের আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।

বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1830-1.1837 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে বা 1.1899-1.1908 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন। এই পেয়ারের মূল্য 1.1899-1.1908 এরিয়ার ওপরে কনসোলিডেশন করলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.1970-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, এবং 1.2092-1.2104। আজ ইউরোজোনে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, আর যুক্তরাষ্ট্রে কেবল নতুন আবাসন বিক্রয় ও আনএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস সম্পর্কিত স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account