বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:
EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

বৃহস্পতিবার EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ন্যূনতম ওঠানামা পরিলক্ষিত হয়েছে এবং সম্পূর্ণরূপে সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং করা হয়েছে। মনে হচ্ছে মার্কেটে বুধবার প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রভাব এখনও বজায় রয়েছে। মনে করিয়ে দিচ্ছি যে ঐ দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্ব হার 4.3%-এ নেমে গিয়েছিল এবং জানুয়ারিতে নন-ফার্ম পেরোল 130,000 বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, পুরো ২০২৫ সালের নন-ফার্ম পেরোল পরিসংখ্যানে প্রায় অর্ধ মিলিয়ন কর্মসংস্থান কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছিল, যা ইঙ্গিত দেয় যে গত বছর মার্কিন অর্থনীতিতে মাসিক ভিত্তিতে গড়ে মাত্র 19,000টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। আমাদের দৃষ্টিতে, এটি ডলারের দরপতনের আরেকটি কারণ ছিল। প্রত্যেক সপ্তাহে মার্কিন প্রতিবেদনের প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে কারণ পরিসংখ্যানগুলোতে একরকম ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু নির্দেশ করে। যেকোনো ক্ষেত্রে, ডলারের ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রয়েছে, মার্কেটের ট্রেডাররা মার্কিন সামষ্টিক প্রতিবেদনের আরেকটি দুর্বল ফলাফল উপেক্ষা করেছে, এবং ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে প্রবণতা নির্ধারণ করা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোন ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। সারাদিন জুড়ে এই পেয়ারের মূল্য শুধুমাত্র সাইডওয়েজ রেঞ্জের মধ্যে মুভমেন্ট প্রদর্শন করেছে এবং কোনো লেভেলের কাছাকাছি যায়নি। তাই নতুন ট্রেডারদের জন্য পজিশন ওপেন করার কোনো ভিত্তি ছিল না।
শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী করেকশন এখনও কার্যকর আছে, তবে শীঘ্রই আবার উর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে। মনে রাখবেন যে এই পেয়ারের মূল্যের সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। যদি সত্যিই তা হয়ে থাকে, তবে ২০২৬ সালের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরুদ্ধার হয়েছে। অতএব, আমরা মধ্যমেয়াদে নতুন করে ডলারের দরপতনের প্রত্যাশা করছি। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক পটভূমি বেশ চ্যালেঞ্জিং রয়ে গেছে, যা ইউরোর মূল্যের আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1830-1.1837 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে বা 1.1899-1.1908 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন। এই পেয়ারের মূল্য 1.1899-1.1908 এরিয়ার ওপরে কনসোলিডেশন 1.1830-1.1837 এরিয়া বাউন্স করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.1970-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, 1.2092-1.2104। আজ ইউরোজোনে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলতি সপ্তাহের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
