মঙ্গলবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:
GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

মঙ্গলবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যও কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়। সারাদিন জুড়ে মার্কেটে সামষ্টিক অর্থনৈতিক এবং মৌলিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব কার্যত অনুপস্থিত ছিল, তবে ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত নতুন 10% শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে, যা শীঘ্রই বৃদ্ধি করে 15% করা হবে। বিশ্বের অনেক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা বা পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে, দেশগুলো সার্বিক পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। মনে রাখবেন ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত নতুন শুল্ক সব দেশের জন্যই সমান, যেখানে পূর্বের চুক্তিগুলোতে বিভিন্ন দেশের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শুল্ক হার এবং অন্যান্য সহযোগিতা কার্যকর শর্ত দেয়া হয়েছিল, যাদের বড় অংশ নির্ধারিত শুল্ক হারের ওপর নির্ভর করা শুরু করেছিল। ফলত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে ট্রাম্পের পাল্টা প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধাজনক শর্তে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে আপাতত মার্কেটে এই বিষয়টি দ্বারা তেমনভাবে প্রভাবিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, এবং এ সপ্তাহে মার্কেটে অত্যন্ত দুর্বল মুভমেন্ট দেখা গিয়েছে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

মঙ্গলবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, যেগুলো নতুন ট্রেডাররা সহজেই কাজে লাগাতে পেরেছিলেন। প্রথমে 1.3484-1.3489 এরিয়ায় একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছে, যা ভুল সিগন্যাল ছিল। এর পরে একই এরিয়ায় পরপর দুইটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়, এবং এরপর এই পেয়ারের মূল্য নিকটবর্তী লক্ষ্যমাত্রা—1.3529—এ পৌঁছায়। 1.3529-1.3543 এরিয়া থেকে বাউন্স হওয়ার ফলে ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পেরেছিলেন, এবং দিনের শেষ নাগাদ এই পেয়ারের মূল্য আবার 1.3484-1.3489 এরিয়া টেস্ট করে। ফলে তিনটির মধ্যে দুটি ট্রেডই লাভজনক ছিল।
বুধবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এখনও GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি দেখা যাচ্ছে না, ফলে আমরা আশা করছি যে ২০২৫ থেকে চলমান বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা ২০২৬ সালের অব্যাহত থাকবে, যা এই পেয়ারের মূল্যকে অন্তত 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রিটিশ মুদ্রার সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে অনুকূল ছিল না, কিন্তু মার্কেটের ট্রেডাররা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতিবাচক সংবাদগুলো উপেক্ষা করে চলেছে।
বুধবার, 1.3484-1.3489 এরিয়া থেকে বাই সিগন্যাল গঠিত হলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন হোল্ড করে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3529-1.3543-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের মূল্য 1.3529-1.3543 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ পাওয়া যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3484-1.3489-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3695, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832, 1.3891-1.3912, এবং 1.3975। বুধবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই বা কোনো প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে না; সুতরাং বুধবার মার্কেটে আবারও অত্যন্ত দুর্বল মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
