logo

FX.co ★ ৭ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

৭ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

মঙ্গলবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

৭ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

মঙ্গলবার আবারও EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের সামান্য কারেকশন পরিলক্ষিত হয়েছে—আর 'সামান্য' বলতে আমি সত্যিই খুব সামান্য মুভমেন্টই বোঝাচ্ছি। মূলত, গত এক মাস ধরে ইউরোর কোনো উল্লেখযোগ্য কারেকশন হয়নি। এই পুরো সময়জুড়ে নানা অজুহাতে EUR/USD-এর দরপতন অব্যাহত রয়েছে। তাই আমরা এখনও মনে করি যে, মার্কেটের বর্তমান মুভমেন্ট সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। গতকাল সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব বেশ দুর্বল ছিল। ট্রেডাররা ইউরোজোনের খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ADP থেকে প্রকাশিত কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে উপেক্ষা করেছে। বিষয়টি মোটেও আশ্চর্যজনক নয়, কারণ গত এক মাস (বা তারও বেশি সময়) ধরে ট্রেডাররা এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিবেদন উপেক্ষা করে এসেছে। ডিসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইনটি এখনও কার্যকর রয়েছে, তাই দীর্ঘমেয়াদে ইউরোর দর বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা বা কারণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন ডলারের মূল্যের বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে আমরা অযৌক্তিক, অনুমান-নির্ভর এবং টেকনিক্যাল বিষয় হিসেবেই বিবেচনা করছি—যা মনে রাখা জরুরি।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

৭ অক্টোবর কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

মঙ্গলবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে তিনটি কার্যকর ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় সেশনের সময় এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218-এর সাপোর্ট এরিয়া থেকে বাউন্স করে 1.1267–1.1275-এর রেজিস্ট্যান্স এরিয়ার দিকে উঠে যায়। ওই রেজিস্ট্যান্স থেকে দুবার রিজেকশনের ফলে ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ পান; আর ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমের ট্রেন্ডলাইনের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে, আজ 1.1198–1.1218-এর সাপোর্ট জোনের দিকে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

বুধবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে—এমনটা আমরা মনে করছি না; তবে ট্রেডাররা এখনও মার্কিন ডলার ক্রয় করে যাচ্ছে এবং যেকোনো ইভেন্ট ও প্রতিবেদন উপেক্ষা করে চলেছে।

বুধবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1267–1.1275 এরিয়া থেকে দুইবার বাউন্স করায় নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন বজায় রাখতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1198–1.1218-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে অথবা নিশ্চিতভাবে 1.1267–1.1275 এরিয়ার উপর স্থিতিশীল হলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1132–1.1140, 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665। বুধবার ইউরোজোনে প্রকাশিতব্য অর্থনৈতিক সূচকের তালিকাটি বেশ সংক্ষিপ্ত; জার্মানিতে শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী (মিনিটস) প্রকাশিত হবে। মনে রাখতে হবে যে, ফেডের এই কার্যবিবরণী মূলত একটি আনুষ্ঠানিক নথি যা বৈঠকের তিন সপ্তাহ পর প্রকাশিত হয়। যেহেতু সেই বৈঠকের পর থেকে মুদ্রাস্ফীতি ও শ্রমবাজার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তাই নীতিনির্ধারকদের অবস্থান ইতোমধ্যেই পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account