![]()
থাইল্যান্ডে বিড়ালের পণ্যের উপর গড়ে ওঠা বাজার বিশাল আকারে পরিণত হয়েছে—যা প্রায় $11.8 বিলিয়নের সমতুল্য। দেশটির সরকার এই খাতকে আর নাগরিকদের শখ হিসেবে দেখছে না; এখন জাতীয় অর্থনীতির একটি বড় অংশ হিসেবে এই খাতকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী নগরায়নের ধারাবাহিকতায় বিড়ালের পণ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অর্থনীতির স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি গতিশীল হচ্ছে। আবাসন সংকট ও সংকুচিত অ্যাপার্টমেন্টের কারণে বিড়াল শহুরে জীবনের আদর্শ সঙ্গী হয়ে উঠেছে, এবং শহরবাসীর ওয়ালেট থেকে টাকা খসাতে কুকুরকে পিছনে ফেলে দিচ্ছে।
থাইল্যান্ডের কৌশল: বিড়ালকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষণা
থাইল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচটি দেশীয় বিড়ালের প্রজাতিকে (সিয়ামিজ, সুফালাক, কোরাট, খাও মানি এবং কঞ্জা) রাষ্ট্রীয় প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই প্রাণীগুলোতে জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে আইনিভাবে সুরক্ষিত রাখার মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বিড়ালভিত্তিক থাই পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর একটি বিস্তৃত পরিকল্পনার অংশ। এশিয়া ও ইউরোপের মেগাসিটিগুলোতে এই জাতের বিড়ালগুলোর চাহিদা বাড়ছে কারণ এগুলো আধুনিক মিনিমালিস্ট নান্দনিকতার সাথে নিখুঁতভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। ফলে থাইল্যান্ড শুধু প্রাণিই রপ্তানি করছে না—আরামদায়ক শহুরে জীবনের দার্শনিকতাও রপ্তানি করছে।
ডিজিটাল সাম্রাজ্য ও জনপ্রিয়তার প্রতীক হিসেবে বিড়াল
![]()
২০২৬ সালের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিড়ালটি কেবল একটি কোমল প্রাণী নয়, বরং শত শত মিলিয়ন ডলারের মিডিয়া সাম্রাজ্য চালানো এক বিজনেস ম্যাগনেট। বিখ্যাত সিয়ামিজ‑ট্যাববি সংকরে জন্ম নেয়া নালা গিনেস বুকে জায়গা করে নিয়েছে এবং তার নিজস্ব ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যও চালায়। শুরুতে মূলত “ইনস্টাগ্রামে” বিড়ালটির ছবিগুলো ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভে করে, যার উপর ভিত্তি করে এই ডিজিটাল সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রধানত ডিজিটাল কনটেন্টে ব্যবহারের কারণে বিড়ালের জনপ্রিয়তা কুকুরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
অ্যাশেরা ও সাভানা: ব্যতিক্রমী বিলাসিতা
![]()
বিড়ালভিত্তিক অর্থনীতির আরেকটা অংশ হচ্ছে এমন কিছু বিরল জাতের বিড়াল, যাদের দাম একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের কাছাকাছি। আধুনিক যুগের সবচেয়ে দামী বিড়াল হচ্ছে আফ্রিকান সার্ভাল ও লেপার্ড ক্যাটের সংকরায়ণের ফলে জন্ম নেয়া অ্যাশেরা——যার একটি ছানার দাম $125,000 পর্যন্ত পৌঁছেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনে এমন জাতের বিড়াল লালন পালন করা আভিজাতের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অত্যন্ত দামী অ্যাশেরা ও সাভানা জাতের বিড়ালগুলোর বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণ দরকার—যেমন নিয়মিত চিকিৎসা এবং পুষ্টিবিদদের পরিষেবা। এক্ষেত্রে পোষাপ্রাণি স্পষ্টতই অতি বিলাসিতার চাদরে ঢাকা এক শিল্প কর্মে পরিণত হয়েছে।
লিকোই এবং খাও মানি: অবাক করা নান্দনিকতা
![]()
কিছু বিরল জাতের বিড়াল চমকপ্রদ চেহারা ও পৌরাণিক ইতিহাসের অংশ হওয়ায় অত্যন্ত দামী। লিকোই বা “ওয়্যারউলফ ক্যাট” অনন্য বিবর্তনের মাধ্যমে বিশ্বজয় করেছে—এগুলো দেখতে কোনো ভূতুড়ে সিনেমার জীবের মতো মনে হলেও এগুলোর স্বভাব বেশ কোমল। ঐতিহ্যবাদী সৌন্দর্যে ক্লান্ত হয়ে যারা “মনস্তাত্ত্বিক বিরলতার” অনুসন্ধান করছে, তাদের জন্য এটি এক আদর্শ পছন্দ। সেইসাথে আছে প্রাচীন থাই জাত খাও মানি— যেটি হেটেরোক্রোম্যাটিক “ডায়মন্ড” চোখের অধিকারী। এই ধরনের বিড়ালের মালিকরা রহস্যময় অনুভূতির জন্য প্রচুর অর্থ খরচ করতে রাজি আছেন এবং এসব প্রাণিকে একটি অনন্য জেনেটিক কোডসম্পন্ন জীব হিসেবে বিবেচনা করে।
প্রযুক্তি খাতে বিড়াল: ডিজিটাল স্বাচ্ছন্দ্য ও নিউরো‑গ্যাজেট
![]()
বিড়ালভিত্তিক অর্থনীতির প্রযুক্তি খাতের বাজার মূলধন এখন $16 বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে এবং এসব ডিভাইস বিড়ালের জীবনের ডিজিটাল রুপান্তর ঘটিয়েছে। স্মার্ট লিটার বক্স বায়োমার্কার ডেটা বিশ্লেষণ করে। অটোমেটিক ফিডারগুলো এআই ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রতিটি বিড়ালের চেহারা শনাক্ত করে ব্যক্তিগত পছন্দ ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী খাবার দেয়। সক্রিয় খেলাধুলার জন্য আছে অটোনোমাস রোলিং রোবট এবং ওয়াল‑মাউন্টেড লেজার সিস্টেম। তাছাড়া ট্যাবলেট গেমস ও টিভি প্রোগ্রামও আছে। ডিজিটালাইজড কেয়ার এখন একটি স্ট্যান্ডার্ডে পরিণত হয়েছে, যা বিড়ালের জীবনকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলছে।
খেলনার মনস্তত্ত্ব: বিড়ালের অবকাশের বিবর্তন
![]()
বিড়ালের খেলনার বাজার সস্তা প্লাস্টিক থেকে ক্রমাগত অর্গানিক উপকরণ ও মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়নের দিকে এগোচ্ছে। একটি আধুনিক বিড়াল‑বান্ধব বাসার দেয়াল ইন্টিগ্রেটেড মডুলার ট্র্যাক ছাড়া কল্পনা করা যায় না—যেগুলো দেখতে অনেকটা দেয়ালে লাগানো জঙ্গলের মতই। পুরস্কার পেতে বিড়ালগুলোকে এখন জটিল ধাঁধা সমাধান করতে হয়। ভোক্তারা তাদের পোষাপ্রাণীর বিনোদনের পিছে নিজের শখের তুলনায় বেশি অর্থ খরচ করতে ইচ্ছুক। এটা একটি অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির বাজার, যেখানে একটি খেলনা ইঁদুরের গুণমান নিয়ে ততটাই আলোচনা হয় যতটা নতুন মডেলের স্মার্টফোনের স্পেস নিয়ে হয়ে থাকে।